Course Content
হিসাব পদ্ধতি এবং বিশেষ খতিয়ান (জাবেদা )
Accounting Systems And Special Journal
0/3
নগদ নিয়ন্ত্রণ
Control of Cash
Principles of Accounting

Accounting is the Language of Business

“হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবসায়ের ভাষা বলা হয়”- এই উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করার পূর্বেই আমাদের ভাষা সম্পর্কে জানতে হবে। কোন বক্তব্য অন্যের নিকট উপস্থাপন করার মাধ্যমই হলো ভাষা।
ভাষা প্রধানত মৌখিক বা লিখিত হয়ে থাকে। কিন্তু প্রতিটি ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যে, এগুলো কতকগুলো সুসংবদ্ধ ও নিয়মানুগ প্রতীক, শব্দ বা সঙ্কেতের সমষ্টি। ঐসব প্রতীক বা সঙ্কেতের নিগূঢ়
অর্থ জ্ঞাপনকারী বা প্রেরক ও যাদের উদ্দেশ্যে জ্ঞাপন করা হয়ে থাকে অর্থাৎ User বা গ্রাহক এই দুই পক্ষের কাছে পরিচিত ।

অতএব দেখা যাচ্ছে, যে কোন ভাষা ব্যবহারের জন্য তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন । প্রথমত, একজন জ্ঞাপক বা প্রেরক থাকবেন যিনি জ্ঞাপন করবেন। দ্বিতীয়ত, এক বা একাধিক ব্যক্তি থাকবেন যাদের উদ্দেশ্যে তথ্য
জ্ঞাপন করা হয়ে থাকে এবং যাদের গ্রাহক বা User বলা হয়ে থাকে । তৃতীয়ত, জ্ঞাপনকারীর মাধ্যমের জন্য এমন কতগুলো সুশৃঙ্খলিত ও নিয়মবদ্ধ শব্দ বা প্রতীক ব্যবহার করা হবে যেগুলোর অর্থ ও
পারস্পরিক সম্পর্ক প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ের কাছে সুপরিচিত।

এবার আসা যাক হিসাববিজ্ঞানকে কেন ব্যবসায়ের ভাষা বলা হয়? কোন একটি কারবার প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক ঘটনা জ্ঞাপন করার মাধ্যম হিসেবে হিসাবপত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রতিভাষা ব্যবহারের সময় যেমন
প্রেরক বা জ্ঞাপনকারী, গ্রাহক ও মাধ্যম দরকার থাকে ঠিক তেমনি, হিসাববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বলা যায়, হিসাবরক্ষক জ্ঞাপক বা প্রেরকের ভূমিকায় কাজ করেন । প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ যেমন- মালিক,
শ্রমিক, পাওনাদার, দেনাদার, সরকার সবাই এখানে গ্রাহক রূপে কাজ করে থাকে এবং হিসাবপত্র মাধ্যম রূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভাষাতে যেমন কতকগুলো সঙ্কেত, শব্দ ও প্রতীক ব্যবহৃত হয়,
হিসাব ব্যবস্থাতেও তেমনি শব্দ, প্রতীক, চিহ্ন প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে শৃঙ্খলিতভাবে বিভিন্ন শব্দ, সংখ্যা, ছক প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়। ঐসব প্রতীক বা সঙ্কেতের অর্থ হিসাবরক্ষক বা হিসাব ব্যবহারকারী
উভয়ের নিকট পরিচিত। হিসাব রাখার সময় কতকগুলো বিশেষ পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করা হয়। ঐসবের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পারলে হিসাবপত্র থেকে তথ্য সংগ্ৰহ করা যায়। যেমন- ডেবিট, ক্রেডিট,
দেনাদার, পাওনাদার ইত্যাদি শব্দ বিশেষ অর্থ বহন করে। বিভিন্ন নিয়মে বিভিন্ন ছক ও তালিকা প্রস্তুত হয়ে থাকে। এ সকল নিয়ম বা প্রচলিত পদ্ধতির সাথে পরিচিত ব্যক্তিবর্গ হিসাবের বক্তব্য বুঝতে পারেন ।
যারা ঐসকল কলাকৌশল বা নিয়ম পদ্ধতির সাথে পরিচিত নয় তাদের কাছে হিসাবরক্ষণের অস্পষ্ট থেকে যায়, কারণ পৃথিবীর বক্তৃব্য কোন ভাষাই সার্বজনীন নয়। হিসাব বিজ্ঞানের ভাষাও তাই সবার
নিকট বোধগম্য নয়। তাছাড়া বিশেষ কোন ভাষাই তো সকলের কাছে গ্রহণীয় নয় ।

উপরের আলোচনার আলোকে পরিশেষে বলা যায় যে, হিসাববিজ্ঞান নিঃসন্দেহে ব্যবসায়ের ভাষা। ভাষা যেমন ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কিছু বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, ঠিক তেমনিভাবে হিসাববিজ্ঞান হলো ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ঐ একই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত । যার সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকল পক্ষ তার সাথে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পর্কের পরিমাণ জানতে পারে । সুতরাং হিসাববিজ্ঞানই
কারবার প্রতিষ্ঠানের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।

Bookmark