Explanation of three ‘C’s used in Accounting
হিসাব সংক্রান্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হিসাব নীতি মালার উদ্ভব হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি বিষয় হলো :
1.Cost concept (ক্রয়মূল্য ধারণা)
2.Consistency (সামঞ্জস্যতা)
3.Conservatism (রক্ষণশীলতা)
এই তিনটি বিষয়ের ইংরেজি শব্দের প্রত্যেকটির আদি অক্ষর ‘c’ । মূলত এই তিনটি নীতি হিসাবরক্ষণ কার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । নিম্নে তিনটি ‘সি’ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
ক্রয়মূল্য নীতি (Cost Concept) : এ নীতি মুদ্রামান নীতির সঙ্গে জড়িত। অনেকে এ নীতিকে অতীত বা ঐতিহাসিক ক্রয়মূল্য নীতিও বলে থাকে । এ নীতির মূল ধারণা হলো :
(ক) সম্পত্তিগুলো তাদের ক্রয় তথা অর্জনমূল্যে লিপিবদ্ধ হয় এবং
(খ)ক্রয় মূল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে সব প্রয়োজনীয় গণনা করা হয়
সমালোচনা :
1.ক্রয় দরে সম্পদ লিপিবদ্ধ হলে সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই সম্পদের বাস্তব মূল্যের পরিবর্তন হতে থাকলেও হিসাব বইতে তার প্রতিফলন ঘটে না । ওই তারিখে কোনো সম্পদের বিক্রয়যোগ্য মূল্য
জানা যায় না ।
2.যে সম্পদের জন্য কোনো অর্জন বা ক্রয়মূল্য পরিশোধ করা হয়নি তা হিসাবভুক্ত হতে পারে না ।
3.সম্পদের অতীত ক্রয়মূল্য ভিত্তিক অবচয়কে চলতি দরে রাজস্ব আয়ের বিপরীতে সংযোগ করা হয়। ফলে নির্ণীত আর্থিক ফলাফল সাঠিক হয় না।
উল্লেখ্য, ক্রয়মূল্য নীতির উপরোক্ত সমালোচনা থাকা সত্ত্বে আর কোনো ভালো বিকল্প না থাকায় সাধারণভাবে এ নীতিমালাকেই গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
2.সামঞ্জস্যতার নীতি (Consistency Principle) : হিসাব রক্ষণের কোনো নীতি একবার গৃহীত হলে তা বছর পরস্পরায় বার বার অনুসরণ করা উচিত। যেমন মজুদপণ্য মূল্যায়নে FIFO
পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে পরবর্তী হিসাবকালেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তা না হলে এক হিসাবকালের ফলাফলের সঙ্গে অন্য হিসাবকালের ফলাফল তুলনাযোগ্য হবে না ।
সমালোচনা :
1.অপরিহার্য পরিস্থিতির কারণে অনুসৃত পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা সহজেই করা যায় না। যদি পরিবর্তন করা হয় তাহলে এর ফলাফল পাদটীকা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত
2.এ নীতিমালা ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে। ফলে নতুন কিছু আবিষ্কারের এবং গ্রহণের প্রবণতা থাকে না।
তবে অন্য কোনো উত্তম বিকল্প না থাকায় আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নে এ নীতিটি সাধারণভাবে অনুসৃত হয়ে থাকে ।
3.রক্ষণশীলতার নীতি (Conservatism Principle) : আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের বেলায় নিরাপদ পথ অনুসরণ করাই শ্রেয়। সম্পত্তি ও রাজস্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম মূল্য এবং দায় ও খরচের
ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মূল্য অনুসরণ করাই রক্ষণশীল নীতির মূল বক্তব্য । এ নীতি অনুসারে হাতে আসার পূর্বেই রাজস্ব আয় বা মুনাফাকে পূর্বানুমান করে হিসাবভুক্ত করা যায় না; কিন্তু ব্যয় বা লোকসান প্রকৃতরূপে
ঘটার পূর্বেই অনুমান করে চূড়ান্ত হিসেবে দেখানো উচিত । অর্থাৎ লাভ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হতে হবে। যেমন : দেনাদারের ওপর অনাদায়ী সঞ্চিতি সৃষ্টি করে লাভকে কমিয়ে দেখানো হলেও বিনিয়োগের
বাজারমূল্য বৃদ্ধি হিসাবভুক্ত করা হয় না ।
সমালোচনা :
1.রক্ষণশীলতার কারণে লাভ-ক্ষতি নির্ণয়ে প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যায় না ।
2.স্থিতিপত্রে প্রকাশিত আর্থিক অবস্থা হতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো থাকে। ফলে স্থিতিপত্র প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ করতে পারে না।
3.গোপন সঞ্চিতি সৃষ্টি করে তহবিলের অপব্যবহার হতে পারে ।
উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রেও উত্তম কোনো বিকল্প না থাকায় এ নীতিটিই সর্বজনস্বীকৃত।