Accounting Constraints
Constraints অর্থ বাধা বা সীমাবদ্ধতা। যে ধারণাগুলো হিসাববিজ্ঞানের নীতির প্রয়োগকে প্রভাবিত করে তাদেরকে হিসাবজ্ঞিানের Constraints বলে। সীমাবদ্ধতাগুলো একটি প্রতিষ্ঠানকে
তার আর্থিক তথ্য বর্ণনায় সর্বজনস্বীকৃত হিসাব নীতিমালার ব্যবহারিক উপযোগিতা না কমিয়ে এবং উপযুক্ত বিবেচনায় কিছুটা পরিবর্তন করে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করে। হিসাববিজ্ঞানের এসব সীমাবদ্ধতা
নিম্নে আলোচনা করা হলো :
1.ব্যয় সুবিধা সম্পর্ক সীমাবদ্ধতা (Cost Benifit Relationship Constraint): হিসাব তথ্য প্রকাশে ব্যয় এবং উক্ত ব্যয় থেকে সুবিধা উভয়ই বিবেচনা করতে হবে।
ব্যয়ের তুলনায় সুবিধা বেশি হলে ব্যবহারকারীদের নিকট তা গ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে ব্যয়ের তুলনায় সুবিধা কম হলে তা ব্যবহারকারীদের নিকট বর্জনীয়। পূর্ণ প্রকাশ নীতি অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীতে
প্রতিষ্ঠানের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। তবে এই নীতি মানতে গিয়ে যদি ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় তবে এক্ষেত্রে তা বর্জনীয় হবে।
যেমন: কলম, পেন্সিল, রাবার ইত্যাদি নীতির দৃষ্টিকোণ হতে কারবারের সম্পত্তি। কিন্তু এগুলো সম্পদ হিসেবে না দেখিয়ে একেবারে খরচ হিসেবে দেখানো উচিত। কারণ এগুলোর মূল্য এত কম
যে, এগুলোকে সম্পদ রূপে হিসাবরক্ষণের আমলে নেয়া হলে, এদেরকে নথিভুক্তকরণের যে উপকারিতা পাওয়া যাবে তার চেয়ে নথিভুক্তকরণের খরচ বেশি হবে। তাই ব্যয় সুবিধার তুলনায় ইহাদেরকে
হিসাবভুক্ত করতে হয়। এই তুলনা অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে কোন তথ্য সংগ্রহের ব্যয় যদি তার পরিবেশনের সম্ভাব্য উপকার থেকে বেশি মনে করা হয় তাহলে উক্ত তথ্য পরিবেশন না করাই সমীচীন ।
2.বস্তুনিষ্ঠতা/আপেক্ষিক গুরুত্ব সীমাবদ্ধতা (Materiality Constraints): এই নীতি অনুসারে ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করার সময় কোন তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ এবং
কোনটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ উহা বিচার করে হিসাব লিখতে হয় । হিসাব বইতে অযথা ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দ্বারা ভারাক্রান্ত করা উচিত নয়।
প্রাসঙ্গিকতা নীতি বলতে, যে সকল বিষয় যা ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব খুব সামান্য বা ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন বিবেচনায় বিষয়গুলোর মোটেই কোন গুরুত্ব নেই, সেসব বিষয় প্রকাশ করার দরকার নেই।
যেমন: বইয়ের ক্ষেত্রেই ধরা যাক, প্রতিটি বই বাঁধাই করতে কতটুকু সূতা খরচ হয় তা হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী নির্ণয় করা উচিত । কিন্তু উক্ত চুলচেরা তথ্য জানার ফলে যে সুবিধা পাওয়া যায়,
ঐ তথ্য সংগ্রহ করার খরচের তুলনায় সেটা নিতান্ত কম । তাছাড়া এই তথ্য সরবরাহ না করা হলেও প্রতিবেদনগুলোর সঠিকতায় বিশেষ কোন হেরফের হয় না। তাই এই তথ্য সংগ্রহ করা বা জ্ঞাপন করা অপ্রাসঙ্গিক ।
আবার অনেক সময় টাকার অংক লিখনের বেলায়ও ভাংতি টাকাকে পূর্ণ সংখ্যায় দেখানো হয় । যেমন: একটি বড় কোম্পানি ৯,৯৯,৯৫০ টাকায় একটি জমি ক্রয় করল, উক্ত জমির মূল্যকে স্থিতিপত্রে
১০,০০,০০০ টাকা আসন্ন ধরে প্রদর্শন করা যায়। এক্ষেত্রে আবার অন্য দিকও আছে। অনেক সময় টাকার অংক ছোট হলেও ঘটনার তাৎপর্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং তা হিসেবে দেখানো যেতে পারে।
যেমন: কোন কর্মচারী নগদ তহবিল হতে ১০০ টাকা চুরি করল। টাকার অংকে কম তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এই তথ্য খুবই প্রাসঙ্গিক। তাই এ ঘটনা হিসেবে যথাযথভাবে দেখানো উচিত।
3.রক্ষণশীলতা সীমাবদ্ধতা (Conservatism Contraint): “সকল ক্ষতিকে আগে থেকে পূর্বানুমান কর, লাভকে নয় (Recognize all losses but anticipate no
profits)-এটাই হচ্ছে এই নীতির মূল কথা। কোন বিষয়ে লাভের সম্ভাবনা যতই বেশি থাকুক না কেন তা বিবেচনা করা যাবে না। কিন্তু ক্ষতির সামান্য সম্ভাবনা থাকলে তা বিবেচনায় আনতে হবে।
কোন অবস্থাতেই সম্পত্তির মূল্য সম্পত্তির নিট মূল্য অপেক্ষা অধিক দেখানো ঠিক নয় যদি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও লাভের অংক সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহ থাকে তাহলে উহাকে বৃদ্ধি করে দেখাবার পরিবর্তে কমিয়ে
দেখানোর ভুলকে মেনে নেওয়া চলে ।
এই নীতি অনুযায়ী মজুদপণ্যের ক্রয়মূল্য ও বাজারমূল্য এ দুইটির মধ্যে যে মূল্যটি কম সেটি গ্রহণ করে যথাসম্ভব লাভ কম দেখাতে হয় । অনাদায়ী দেনার জন্য ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা তৈরি করে নিট লাভ কমানো হয়।
বিনিয়োগের মূল্য হ্রাসবৃদ্ধির জন্য তহবিল সৃষ্টি করে নিট আয় কমানো হয় । ব্যবসায়ের অনির্দিষ্ট জীবন কাল থাকা সত্ত্বেও সুনামের মত অস্পর্শনীয় সম্পত্তির
অবলোপন করা হয় । আবার পাওনাদারদের ওপর Provision ধরা হয় না ।
4.শিল্পরীতি সীমাবদ্ধতা (Industrial Practices Constraint) : কারবারের বিভিন্নতার কারণে স্বীকৃত হিসাব নীতির কিছুটা বাইরে গিয়েও চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী তৈরি করতে হয়।
অর্থাৎ এক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক নীতি উপেক্ষা করেই বিশেষ হিসাব অনুমোদন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: সেবা প্রদানকারী (Utility Service) প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য (যেমন-রেলওয়ে,
ব্যাংক বীমা কোম্পানি ইত্যাদি) হিসাবনীতি চর্চা ও প্রয়োগ কিছু কিছু বিষয়ে উপেক্ষা করা হয় যা মূলত হিসাববিজ্ঞান নীতি প্রয়োগের বাধাস্বরূপ।