Accopunting Principles
হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক অনুমানসমূহের ওপর ভিত্তি করে হিসাব পেশা কতকগুলো নীতির উন্নয়ন করেছে। যেগুলোকে ব্যবহারিক নির্দেশিকা (Operating Guidelines) বলা হয় ।
এ নির্দেশিকায় অর্থনৈতিক ঘটনা ও লেনদেনগুলো কীভাবে হিসাবভূক্ত হবে এবং কীভাবে আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হবে তার সৃস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করে। অনুমান এবং নীতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো
যেসব নীতির ভিত্তিতে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয়েছে তা অবশ্যই আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ থাকতে হবে কিন্তু অনুমান উল্লেখ করতে হয় না কিন্তু বিদ্যমান থাকে।
হিসাববিজ্ঞানের এরূপ ৪টি মৌলিক নীতি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো :
1.ঐতিহাসিক মূল্য নীতি (Historical Cost Principle): এই নীতি অনুযায়ী সম্পত্তিকে তার ঐতিহাসিক ক্রয় মূল্যে হিসাব বইতে দেখাতে হবে। এই ধারণা হিসাবরক্ষককে মূল্য সংক্রান্ত
বিতর্ক হতে রক্ষা করে। কারণ কোন সম্পত্তি বা দায় বিক্রয় না হওয়া পর্যন্ত তার সঠিক বাজার মূল্য বা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। তাছাড়া, অনুমানসিদ্ধ মূল্যও বিবেচনা করা সম্ভব নয় । কারণ মানুষের
অনুমান এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকমের। এক্ষেত্রে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয় তা নির্ণয় করা কঠিন। তাই সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে ক্রয়মূল্যই প্রকৃত মূল্য এটাই বিবেচ্য বিষয় । এই নীতির
আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যদি এমন কিছু সম্পত্তি থাকে যার জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কোন টাকা পরিশোধ করে নাই তবে এটাকে ব্যবসায়ের সম্পত্তি হিসেবে ধরা যাবে না। উদাহরণ স্বরূপ:
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনাম (Goodwill) একটি মূল্যবান সম্পত্তি, কিন্তু ইহাকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তপত্রে দেখানো যাবে না । কিন্তু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি এই সুনামের জন্য পূর্ববর্তী মালিককে
টাকা পরিশোধ করে থাকে তবে এই সুনামকে উদ্বৃত্তপত্রে সম্পাত্তি হিসেবে দেখানো যাবে ।
2.রাজস্ব চিহ্নিতকরণ নীতি (Revenue Recognition Principle) : সাধারণ অর্থে আয় বা Revenue বলতে কারবারের ভিতর নগদ টাকার আগমন (Inflow) বুঝায়।
পণ্য বা সেবা প্রদানের বিনিময়ে বাইরের ক্রেতা ব্যক্তি বা সংস্থার (Customer) নিকট হতে যে পরিমাণ নগদ টাকা বা নগদ টাকা পাওয়ার অঙ্গীকার পাওয়া যায় তাই ‘আয়’। এই আয় দ্বারা প্রতিষ্ঠানের
সম্পদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। আয় চিহ্নিতকরণ নীতি (Revenue Recognition Principle) অনুযায়ী নির্দিষ্ট হিসাবকালের মধ্যে সফল অর্জনকেই আয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । এ আয় নগদ
এবং বাকি দু’ভাবেই হতে পারে । আমেরিকার Accounting Principle Board সংক্ষেপে APB এর মতে, তিন প্রকার প্রাপ্তিকে আয় (Revenue) বলা যাবে যথা: (১) পণ্য বিক্রয় (২)
সেবা প্রদান ফি এবং ফার্মের সম্পদ ব্যবহারের কারণে অন্যের নিকট হতে প্রাপ্য সুদ, ভাড়া, রয়ালটি ফি ইত্যাদি (৩) পণ্য ব্যতীত অন্য কোন সম্পদ বিনিময় বা বিক্রয় যেমন: যন্ত্র, আসবাবপত্র, বিনিয়োগ প্রভৃতি
বিক্রয় হতে মুনাফা ।
3.আয়-ব্যয় সংযোগ নীতি (Matching Principle) : নির্দিষ্ট সময়ের অর্জিত আয়কে ঐ সময়ের সংঘটিত ব্যয়ের বিপক্ষে লিপিবদ্ধ করণই হচ্ছে আয়-ব্যয় সংযোগ নীতি।
এ নীতি অনুযায়ী সঠিক আয়ের বিপরীতে সঠিক ব্যয়কে লিপিবদ্ধ করতে হয়। এই নীতির মূলকথা হচ্ছে খরচকে আয়ের পেছনে পেছনে যেতে হবে।
অর্থাৎ ‘Let Expense follow the Revenue’ এই নীতি সর্বদা বকেয়া ভিত্তিক (Accrual basis) হিসাবরক্ষণ কৌশল মেনে নিয়ে প্রয়োগ করা হয়।
বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় যেমন কোন নির্দিষ্ট হিসাবকালে মোট আয় (প্রাপ্ত বা প্রাপ্য) থেকে মোট ব্যয় (প্রদত্ত বা প্রদেয়) বাদ দিলে নিট আয় (Net Income) পাওয়া যায় ।
তেমনি আয় ব্যয় সংযোগ নীতি অনুযায়ী পণ্য বা সেবা বিক্রয় হতে মোট যে আয় হয়, তা থেকে উক্ত আয়সমূহ অর্জন করতে যে সংশ্লিষ্ট ব্যয় হয় তা বাদ দিতে হয়। তাই Income statement
এ প্রদত্ত খরচ হতে অগ্রিম খরচ বিয়োগ এবং বকেয়া খরচ যোগ করে প্রকৃত খরচ নিরূপণ করতে হয় এবং একইভাবে প্রাপ্ত আয়ের সাথে অগ্রিম ও বকেয়া আয় সমন্বয় করে প্রকৃত আয় নির্ণয় করতে এই নীতি প্রয়োগ
করা হয় ।
4.পূৰ্ণ প্ৰকাশ নীতি (Full Disclosure Principle) : এই নীতি অনুসারে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা জানার উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত আর্থিক বিবরণীসমূহ (Financial Statements)
এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট পাদটীকা (Foot Notes সমূহ) সকল প্রয়োজনীয় তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হওয়া উচিত। যাতে ব্যবহারকারীগণ কোনরূপ জটিলতা ছাড়াই সহজে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বুঝতে
পারে ।পূর্ণ প্রকাশ নীতির ফলে হিসাবের সততা, স্বচ্ছতা ও বাইরের লোকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে বর্তমান কোম্পানি আইনের বিভিন্ন ধারা, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ
কমিশনের চাহিদা, আন্তর্জাতিক রীতি নীতি অনুসরণ করার কারণে হিসাব তথ্যের পূর্ণ প্রকাশ করতে হয়।