Course Content
হিসাব পদ্ধতি এবং বিশেষ খতিয়ান (জাবেদা )
Accounting Systems And Special Journal
0/3
নগদ নিয়ন্ত্রণ
Control of Cash
Principles of Accounting

Features/Elements of Double Entry System

দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি এ বিংশ শতাব্দীতেও একমাত্র নির্ভরযোগ্য এবং সর্বোত্তম হিসাব ব্যবস্থা রূপে পরিগণিত হয়ে আসছে। বস্তুত এ হিসাব পদ্ধতির বিশেষ কতকগুলো মূলনীতি অথবা বৈশিষ্ট্য রয়েছে
এবং এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি অন্যান্য হিসাব পদ্ধতি অপেক্ষা উন্নতমানের হিসাব পদ্ধতি রূপে অভিহিত হয়েছে। নিম্নে দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতির মূলনীতি অথবা
এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো :

1. দ্বৈতসত্তা (Dual Aspect)দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি লেনদেনের অবশ্যই দুটি পক্ষ থাকবে; যার একটি ডেবিট পক্ষ এবং অপরটি ক্রেডিট পক্ষ।

2.দাতা-গ্রহীতা (Giver and Receiver): প্রতিটি লেনদেনে স্বতঃসিদ্ধভাবে একজন দাতা এবং একজন গ্রহীতা থাকে। এই দুই হিসাব খাতেই লেনদেনটি লিপিবদ্ধ করতে হবে।

3.শ্রেণীবদ্ধকরণ (Classification) দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে সংরক্ষিত প্রত্যেকটি হিসাবকে আলাদা শ্রেণীবিন্যাস করা হয় । অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট শিরোনামের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয়
ঘটনাগুলোকে উক্ত শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত করে লেখা হয় এবং তা থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যায় ।

4.গাণিতিক শুদ্ধতা প্রমাণ (Justifying Arithmetical Accuracy) দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হিসাবগুলোর শুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য খতিয়ানের জেরগুলোকে নিয়ে
একটি ছক তৈরি করা হয় যা রেওয়ামিল নামে অভিহিত। আর এই রেওয়ামিলই শুদ্ধতা যাচাইয়ের মাপকাঠি

5.বিজ্ঞানসম্মত (Scientific): দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিই হলো একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত হিসাব পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় ।

6.পূর্ণাঙ্গ হিসাব ব্যবস্থা (Full Account System)দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিই হলো একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত হিসাব পদ্ধতি । এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।

7.নির্ভুল হিসাব ব্যবস্থা (Accurate Account System)দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে রক্ষিত হিসাব থেকে রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণের মাধ্যমে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা সঠিকভাবে যাচাই করা যায়।

8.অর্থনৈতিক অবস্থার বিশ্লেষণ (Analysis of Financial Position)দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হিসাবের সাহায্যে কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত
আয়-ব্যয় বিবরণী তৈরি করা যায় এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখে প্রস্তুতকৃত উদ্বৃত্তপত্রের সাহায্যে ব্যবসায়ের প্রকৃত অবস্থা জানা যায় ।

9.তুলনামূলক বিশ্লেষণ (Comparative Analysis) দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির সাহায্যে সংরক্ষিত হিসাব অতীতের সংরক্ষিত হিসাবের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে।
ফলে অতীত ও বর্তমানের সাথে তুলনা করা যায়, যা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করে।

10.মোট ফলাফল (Total Output) দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে যেহেতু লেনদেনের মোট ডেবিট ও মোট ক্রেডিটের পরিমাণ সমান হয় । তাই সামগ্রিক লেনদেনের মোট যোগফলও সমান হয়ে থাকে।
এতে করে ফলাফল নিরূপণ সহজতর হয়।

আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, কোন লেনদেন লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিয়ম-নীতি অন্যথা হলে হিসাব বই হতে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে না এবং হিসাববিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
তবে দু’তরফা দাখিলার উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য ও মূলনীতিগুলো সকলের কাছে গ্রহণীয় এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব পদ্ধতি বলে সর্বত্রই বিবেচিত ।

Bookmark