Idea on a Complete Set of Financial Statements.
অথবা, আর্থিক বিবরণীর উপাদান/IAS-I অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীসমূহ Components of Financial Statement
আর্থিক বিবরণী হলো কারবার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিচ্ছবি বা আর্থিক অবস্থার চিত্র। আর্থিক বিবরণীর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো আর্থিক বিবরণীর উপাদান।
IFRS (International Financial Reporting Standard) এ প্রকাশিত এবং বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত IAS-1 এর ১০নং প্যারায় আর্থিক বিবরণীর
উপাদান বলতে আর্থিক বছর শেষে নিম্নোক্ত ৫টি প্রধান বিবরণীকে বোঝানো হয়েছে :
(ক) আর্থিক অবস্থার বিবরণী/ উদ্বর্তপত্র (Statement of Financial Position / Balance Sheet);
(খ) বিশদ আয় বিবরণী (Statement of Comprehensive Income);
(গ) মালিকানা স্বত্বার পরিবর্তন বিবরণী (Statement of Changes in Equity);
(ঘ) নগদ প্রবাহ বিবরণী (Statement of Cash flow);
(ঙ) হিসাবের তাৎপর্যপূর্ণ নীতি ও ব্যাখ্যামূলক নোট (Notes, comprising a summary of significant accounting polocies and other
explanatory information).
আর্থিক বিবরণীর প্রত্যেকটি উপাদানসম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে ধারণা দেয়া হলো :
(ক) আর্থিক অবস্থার বিবরণী/উদ্ধতপত্র (Statement of Financial Position / Balance Sheet) : আর্থিক বিবরণীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে
Balance Sheet বা উদ্বতপত্র। Balance Sheet বলতেই আমরা বুঝি সম্পদ ও দায়ের উপস্থাপনা। তাই Balance Sheet- ই হচ্ছে কারবারের সম্পদ ও দায় বিবরণীর প্রধান মুখপত্র।
হিসাব সমীকরণের তিনটি উপাদান যথা (i) সম্পদ (Assets ); (ii) দায় (Liabilities) ও (iii) মালিকের স্বত্বাধিকারকে (Owner’s Equity)
আনুষ্ঠানিকভাবে সাজিয়ে যে ছকে প্রদর্শন করা হয়, সেটাই হচ্ছে উদ্বৃত্তপত্র। কারবারের আর্থিক অবস্থার সঠিক চিত্র উদ্বর্তপত্রের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়।
(খ) বিশদ আয় বিবরণী (Statement of Comprehensive Income): যে কোন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বছর শেষে লাভ বা ক্ষতি যে বিবরণীর মাধ্যমে জানা যায়
তাকে আয় বিবরণী বলে। আর্থিক বিবরণীসমূহের অন্যতম একটি অংশ হলো আয় বিবরণী । আয় বিবরণীতে মুনাফা জাতীয় আয়গুলো হতে মুনাফা জাতীয় ব্যয়গুলো বাদ দিয়ে নীট মুনাফা
(Net Income) নির্ণয় করা হয়। এক কথায় বলা যায় কোন নির্দিষ্ট সময় শেষে কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খতিয়ান হিসাবে আয় ও খরচের যে আইটেমগুলো থাকে তার
ভিত্তিতে আয়গুলোর সমষ্টি হতে খরচগুলোর সমষ্টি বাদ দিয়া নীট আয় নির্ণয়ের জন্য যে বিবরণী তৈরি করা হয় তাকে আয় বিবরণী নামে অভিহিত করা হয় ।
(গ) মালিকানা স্বত্বার পরিবর্তন বিবরণী/ মালিকানা স্বত্ত্বা বিবরণী (Statement of Changes in Owner’s Equity/Owner’s Equity Statement):
মালিকানা স্বত্বা (Owner’s Equity) বলতে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রাজিতে মালিকের দাবির পরিমাণকে বুঝায় । সংক্ষেপে ইহা প্রতিষ্ঠানের “মূলধন” বা “নীট সম্পদ”
(মোট সম্পদ – দায়) মালিকের স্বত্বকে “অবশিষ্ট দাবি” (Residual Claim) নামে অভিহিত করা হয়। মালিকানা স্বত্ত্বার পরিবর্তন বা মালিকের স্বত্ব নিরূপণের জন্য চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণীর
অংশ হিসাবে মূলধন বিবরণী বা মালিকানা স্বত্বা বিবরণী তৈরি করা হয় !
সংরক্ষিত আয় বিবরণী বা রক্ষিত আয় বিবরণী (Retained Earnings Statement): যৌথ মূলধনী কোম্পানির বা কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে এ বিবরণী প্রস্তুত করা হয় ।
কোন হিসাবকালের প্রারম্ভিক রক্ষিত আয়ের (পূর্ববর্তী বছরগুলোর নীট আয়ের উদ্বৃত্ত) সাথে চলতি হিসাবকালের অর্জিত মুনাফা যোগ করে তা দেখিয়ে এবং নীট আয়ের বন্টিত অংশ
(Appropriated Portion) এবং আবন্টিত উদ্বৃত্ত (Unappropriated Balance) দেখিয়ে যে বিবরণী তৈরি করে রাখা হয় তাকে সংরক্ষিত বা রক্ষিত আয় বিবরণী বলে ।
(ঘ) নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash flow Statement): নগদ প্রবাহ বিবরণী চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণীর অংশ এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে প্রস্তুত করতে হয়।
কোন প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নগদ অর্থের Inflow এবং Out flow যে বিবরণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে Cash flow statement বা নগদ প্রবাহ বিবরণী বলা হয় ।
(ঙ) হিসাবের তাৎপর্যপূর্ণ নীতি ও ব্যাখ্যামূলক নোট (Notes, comprising a summary of significant accounting policies and other
explanatory information) : আর্থিক বিবরণীসমূহতে প্রকাশিত তথ্যমালা হিসাববিজ্ঞানের অনুসৃত নীতিমালা অনুযায়ী প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা কারবার সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে
অবহিত করতে হয়। তাই আর্থিক বিবরণীতে ব্যবহৃত হিসাববিজ্ঞানের অনুসৃত নীতিসমূহ টীকার আকারে উল্লেখ করতে হয় । তাছাড়া আর্থিক বিবরণীতে উপস্থাপিত আর্থিক তথ্যসমূহকে তার ব্যবহারকারীদের
নিকট সহজে বোধগম্য করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আর্থিক তথ্যসমূহের সপক্ষে প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক টীকা সংযোজন করতে হয় ।