Features of Accounting
বিংশ শতাব্দীর প্রগতিশীল অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থায় হিসাবরক্ষণ একটি গতিশীল ব্যবহারিক বিষয়। মানব সভ্যতার ক্রম- বিবর্তনের ইতিহাসের মতোই হিসাবশাস্ত্রের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস খুব প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়।
কোন আকস্মিক ঘটনা বা পরিবর্তনের দ্বারা আধুনিক হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা রাতারাতি গড়ে উঠেনি। দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টি বর্তমান স্তরে এসে পৌঁছেছে। তাই অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানের
ন্যায় হিসাবরক্ষণেরও বিশেষ কতকগুলো বৈশিষ্ট্য ইতিমধ্যে সুস্পষ্টভাবে বিকাশ লাভ করেছে । নিম্নে হিসাবরক্ষণের কতিপয় বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো :
1.হিসাবশাস্ত্র একটি সামাজিক বিজ্ঞান (Accounting is a Social Science): ব্যবসা-বাণিজ্যের আর্থিক কার্যকলাপের সঠিক ও সুশৃঙ্খল হিসাব তৈরি করা হিসাববিজ্ঞানের লক্ষ্য।
ইহা সমাজ বহির্ভূত কোন কার্যক্রম নয়; বস্তুত সমাজ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন : অংক শাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, দর্শন, রাষ্ট্রনীতি, পরিসংখ্যান ও মনোবিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে হিসাবরক্ষণ
একটি সামাজিক বিজ্ঞান ।
2.হিসাবশাস্ত্র একটি কলা (Accounting is an Art) : হিসাব উপস্থাপন ও হিসাবকে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি কাজ একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং নীতি মোতাবেক সংরক্ষণ করা হয়। উক্ত নীতি ও
পদ্ধতিকে কলা বলে। সুতরাং হিসাববিজ্ঞান একটি কলাবিশেষ।
3.হিসাবশাস্ত্র একটি বিজ্ঞান (Accounting is a Science) : হিসাবরক্ষণ শাস্ত্র আর্থিক লেনদেনসমূহকে হিসাবের বইতে যুক্তিসম্মত ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ করে প্রতিটি লেনদেন বা
ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ বিশ্লেষণপূর্বক তার কালান্তিক ফলাফল নির্ণয় করা হয় বিধায় হিসাবরক্ষণকে একটি বিজ্ঞান বলা হয় ।
4.হিসাববিজ্ঞান কলা ও বিজ্ঞান একই সাথে (Accounting is both a Science and Arts) : গবেষকদের বিচার- বিশ্লেষণ ও দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে হিসাববিজ্ঞানের
কলাকৌশল স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এটি একই সঙ্গে প্রায়োগিক বিজ্ঞান ও ফলিত কলা হিসেবে বিশ্বের সকল দেশেই স্বীকৃতি পেয়েছে।
5.হিসাববিজ্ঞান হিসাব-নিকাশের একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম (Accounting is a best Media of Information) :: হিসাব শাস্ত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণের
পদ্ধতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করে । এর দ্বারা ব্যবসা- প্রতিষ্ঠানের সমস্ত লেনদেনের সুষ্ঠু ও স্থায়ী হিসাব সংরক্ষণ করা হয় ।
6.হিসাববিজ্ঞান আর্থিক ফলাফল প্রদান করে (Accounting Provides the Financial Result) : হিসাববিজ্ঞান সকল আর্থিক লেনদেনের সঠিক ও সুশৃঙ্খল হিসাব-নিকাশ
সংরক্ষণের শিক্ষা দেয়। দু’তরক্ষা দাখিলা পদ্ধতির নিয়ম অনুসারে অতি সহজেই প্রয়োজনীয় হিসাব প্রস্তুতের মাধ্যমে ব্যবসায়ের ফলাফলগুলো নির্ধারণ করা যায় এবং আর্থিক বিবরণী প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ের
আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় ।
7.হিসাবশাস্ত্র একটি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পদ্ধতি বিশেষ (Accounting is a Practical Knowledge & Method): বাস্তব জীবনে যাবতীয় সম্পদ ও দ্রব্য-সামগ্রী তথা অন্যান্য
লেনদেন কিভাবে হিসাবভুক্ত করা হয় সে সম্পর্কে হিসাবশাস্ত্র হাতে-কলমে শিক্ষা দেয় ৷
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও হিসাববিজ্ঞানের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন : সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, বিষয়, টাকা বা টাকায় পরিমাণযোগ্য লেনদেন, সুশৃঙ্খলার সাথে হিসাব লিপিবদ্ধকরণ, হিসাবের স্তর দ্বৈতসত্তা,
স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নির্ভুলতা, ব্যবহারিক বিজ্ঞান এবং হিসাববিজ্ঞান একটি ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার ইত্যাদি ।